পশ্চিমবঙ্গ · কলকাতা · দুই মতের পঞ্জিকা

তারিখ কীভাবে গোনা হয়

ঋতুপত্র কোনো ছাপা পঞ্জিকা থেকে তারিখ তুলে আনে না। সূর্য আর চাঁদের অবস্থান থেকে, পশ্চিমবঙ্গের পঞ্জিকার নিয়মে, নিজেই গোনে: অ্যাপে আপনার ফোনে, এই ওয়েবসাইটে কলকাতার জন্য।

দিন শুরু হয় সূর্যোদয়ে

পঞ্জিকায় একটি দিনের তিথি সেটিই, যেটি সেদিন সূর্যোদয়ের মুহূর্তে চলছে। বাংলা তারিখও বদলায় সূর্যোদয়ে, মাঝরাতে নয়। তাই সকালে তিথি শেষ হয়ে গেলেও সারা দিনের তিথি সূর্যোদয়েরটিই।

এই ওয়েবসাইটের সব সময় কলকাতার, ভারতীয় সময়ে (IST)। অ্যাপ আপনার বাছা শহরের সূর্যোদয় ধরে।

তিথি কী

চাঁদ সূর্যের চেয়ে ১২ ডিগ্রি করে এগোলে একটি তিথি পূর্ণ হয়; ত্রিশ তিথিতে এক চান্দ্র মাস, অমাবস্যা থেকে অমাবস্যা। চাঁদের গতি সমান নয়, তাই একটি তিথি প্রায় ২০ থেকে ২৭ ঘণ্টা লম্বা হয়। কোনো তিথি দুই সূর্যোদয়ে থাকে, আর কোনোটি কোনো সূর্যোদয়েই থাকে না: তাকে বলে তিথি ক্ষয়।

বাংলা মাস কখন শুরু হয়

পশ্চিমবঙ্গে বাংলা মাস শুরু হয় সূর্যের সংক্রান্তি থেকে: সূর্য নতুন রাশিতে ঢোকার মুহূর্ত সূর্যোদয় থেকে মধ্যরাতের মধ্যে হলে পরদিন মাসের ১ তারিখ, মধ্যরাতের পরে হলে তার পরদিন। তাই মাস ২৯ থেকে ৩২ দিনের হয়।

বাংলাদেশের বাংলা ক্যালেন্ডার আলাদা: সেখানে ১৪ এপ্রিল সব সময় পয়লা বৈশাখ, মাসের দিনও বাঁধা। তাই দুই দেশের তারিখ প্রায়ই দু-তিন দিন আলাদা হয়।

উৎসবের দিন কোন নিয়মে

প্রতিটি পুজোর একটি তিথি, আর দিন ঠিক হয় সেই তিথি দিনের কোন সময়ে থাকে তা দেখে: কোনোটির সূর্যোদয়ে, কোনোটির পূর্বাহ্ণে, মধ্যাহ্নে বা অপরাহ্ণে, কোনোটির প্রদোষে (সন্ধ্যায়) বা নিশীথে (মধ্যরাতে)। কালীপূজা সেই রাতে, যার নিশীথে অমাবস্যা থাকে; সরস্বতীপূজা সেই দিনে, যার পূর্বাহ্ণে পঞ্চমী থাকে। তিথি দুদিন জুড়ে থাকলে কোন দিন, তারও নিয়ম আছে, বেশির ভাগ রঘুনন্দনের তিথিতত্ত্ব থেকে।

প্রতিটি উৎসবের পাতায় তার নিয়ম পুরো লেখা আছে, আর অন্য কোনো সূত্র অন্য নিয়মে অন্য দিন দিলে, সেটিও।

দুই মতের পঞ্জিকা

পশ্চিমবঙ্গের পঞ্জিকা দুই মতের। সূর্যসিদ্ধান্ত মতে, প্রাচীন মত: গুপ্তপ্রেস ডিরেক্টরি পঞ্জিকা, বেণীমাধব শীলের পঞ্জিকা, মদন গুপ্তের পঞ্জিকা। দৃকসিদ্ধান্ত মতে, সূর্য-চাঁদের আধুনিক হিসাবে: বিশুদ্ধসিদ্ধান্ত পঞ্জিকা। দুই মতে তিথির সময় কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত আলাদা হতে পারে, তাই কোনো কোনো বছর পুজোর দিনও আলাদা হয়।

অ্যাপ আর এই ওয়েবসাইট, দুটোই এখন দৃকসিদ্ধান্ত মতে। সূর্যসিদ্ধান্ত মতের হিসাব তৈরি, কিন্তু একটি পুরো ছাপা বছরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা বাকি; তাই অ্যাপে সেটি এখনও বেছে নেওয়া যায় না, আর এই ওয়েবসাইটে যেখানে সেটি দেখানো হয়, পাশে লেখা থাকে ‘অযাচাইকৃত গণনা’।

ছাপা পঞ্জিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা

৪৪৮/৪৫৬দৃকসিদ্ধান্ত মতের পঞ্জিকার নাম দিয়ে ছাপা ৪৫৬টি পুজো ও উৎসবের দিন আর সন্ধিপূজার সময়ের মধ্যে ৪৪৮টি ঋতুপত্রের হিসাবের সঙ্গে মেলে। ২০১৭ আর ২০২০ থেকে ২০২৭ সাল, কলকাতা।

সূত্র: খবরের কাগজে উদ্ধৃত বিশুদ্ধসিদ্ধান্ত পঞ্জিকা, বেলুড় মঠ আর রামকৃষ্ণ মঠ কামারপুকুরের ছাপা তালিকা, drikpanchang.com, আর ভারত সরকারের রাষ্ট্রীয় পঞ্চাং (IMD)। প্রতিটি দাবি তার সূত্রের ঠিকানা আর হুবহু লেখা সমেত রাখা আছে।

তিথির সময়ও মিলিয়ে দেখা: বর্তমান পত্রিকায় ছাপা দৃকসিদ্ধ পঞ্জিকার ৪৫ দিনে সূর্যোদয়ের তিথি ৪৫/৪৫, আর তিথি শেষের সময় ৪৫টিই ২ মিনিটের মধ্যে।

যে আটটি মেলেনি, আর কেন

  1. জন্মাষ্টমী ২০২৩, বিশুদ্ধসিদ্ধান্ত (কামারপুকুরের তালিকা): ৭ সেপ্টেম্বর। অষ্টমী ৬ তারিখের মধ্যরাতে ছিল, তাই মধ্যরাতের নিয়মে দিন ৬ সেপ্টেম্বর।
  2. দুর্গাপূজা ২০২৭, বিশুদ্ধসিদ্ধান্ত (এক বছর আগের খবর): নবমী ৮ ও ৯ অক্টোবর দুদিন। নবমী তিথি দুটি দিন ছোঁয়; একই খবর নবমী পূজা শেষ করে ৯ তারিখ সকাল ৯:০২-এর আগে, যা ঋতুপত্রের পূজার দিন।
  3. রাষ্ট্রীয় পঞ্চাং (IMD), সারা ভারতের হিসাবে, ছটি দিন: দীপাবলি ২০২৪ ও ২০২৫ কালীপূজার দিনেই (তিথিতত্ত্বে প্রদীপ পরের সন্ধ্যায়); রামনবমী ২০২৬ ২৬ মার্চে (কামারপুকুরের তালিকায় ২৭ মার্চ, তিথিতত্ত্বের দিন); অক্ষয় তৃতীয়া ২০২৩ আর রাধাষ্টমী ২০২২ এক দিন আগে; জগদ্ধাত্রীপূজা ২০২৬ ১৮ নভেম্বরে, যে দিনের নবমী কলকাতায় সূর্যোদয়ের ৯ মিনিট পরে শুরু।

যা এখনও যাচাই বাকি

  • সূর্যসিদ্ধান্ত মতের হিসাব সাত সপ্তাহের ছাপা তারিখের সঙ্গে মেলানো, পুরো বছরের সঙ্গে নয়। ১৪৩৪ সালের ছাপা পঞ্জিকা এলে পুরো বছর মিলিয়ে দেখা হবে।
  • দৃকসিদ্ধান্ত মতের হিসাব মেলানো হয়েছে খবরে ছাপা সময়ের সঙ্গে, ছাপা বিশুদ্ধসিদ্ধান্ত পঞ্জিকার সঙ্গে নয়। যে দিন সূর্যোদয়ের ৪ মিনিটের মধ্যে তিথি বদলায়, সেদিনের তিথি সূর্যোদয়ের সংজ্ঞার ওপর নির্ভর করে।
  • মহালয়া ২০২৭: অপরাহ্ণের নিয়মে ঋতুপত্রের দিন বুধবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৭; দুটি খবর সূর্যোদয় ধরে ৩০ সেপ্টেম্বর দিয়েছে। ১৪৩৪ সালের পঞ্জিকা এলে মিলিয়ে দেখা হবে।

সূর্য আর চাঁদের হিসাব

সূর্য-চাঁদের অবস্থান, সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত গোনা হয় Astronomy Engine-এর পদ্ধতিতে (মুক্ত সফটওয়্যার, MIT লাইসেন্স), যা চাঁদের অবস্থান কয়েক আর্কসেকেন্ডের মধ্যে দেয়। দৃকসিদ্ধান্ত মতে রাশি গোনা হয় লাহিড়ী অয়নাংশে, পশ্চিমবঙ্গের পঞ্জিকার রীতিতে।

ভুল চোখে পড়লে

কোনো তারিখ ভুল মনে হলে জানান: কোন তারিখ, কোন শহর, কোন মত, আর আপনার পঞ্জিকায় কী লেখা আছে।

সাহায্য ও যোগাযোগ